ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ৫টি জরুরি প্রস্তুতি, যা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

ডাক্তারের চেম্বারে দীর্ঘক্ষণ লাইনে বসে থাকার পর যখন ভেতরে ঢোকার ডাক পড়ে, তখন অনেকেরই হাত পা একটু ঠান্ডা হয়ে আসে। আর ডাক্তারের চেয়ারের মুখোমুখি বসলে তো কথাই নেই—মাথার ভেতর সব তালগোল পাকিয়ে যায়!

ফলাফল? বাড়ি ফিরে এসে মনে পড়ে, "ইস! পেটের ব্যথার কথাটা তো বলাই হলো না!" কিংবা "ওষুধটা খাওয়ার আগে না পরে খাব, সেটাই তো জিজ্ঞেস করা হয়নি।"

ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি

এমন অভিজ্ঞতা আমাদের প্রায় সবারই কম বেশি হয়েছে। অথচ চেম্বারে ঢোকার আগে মাত্র ১০ মিনিটের কিছু প্রস্তুতি নিলে কিন্তু ডাক্তারের কাছে নিজের সমস্যাগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরা যায় এবং সঠিক চিকিৎসাও পাওয়া যায়।

পরেরবার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার আগে নিচের ৫টি সহজ প্রস্তুতি অবশ্যই নিয়ে নিবেন:


১. রোগীর কী কী সমস্যা হচ্ছে, লিখে নিয়ে যান।

ডাক্তারের সামনে বসলে অনেক সময় ছোটখাটো লক্ষণগুলো আমরা ভুলে যাই। তাই বাড়ি থেকেই ফোনের নোটপ্যাডে বা একটি ছোট কাগজে পয়েন্ট করে লিখে নিন:

  • সমস্যাটা ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে?
  • দিনের কোন সময়ে সমস্যা বা ব্যথাটা বেশি বাড়ে?
  • ব্যথার ধরন কেমন, হালকা চিনচিন করে, নাকি তীব্র যন্ত্রণা হয়?

এভাবে গুছিয়ে বললে ডাক্তার খুব দ্রুত আপনার রোগের ধরন বা প্যাটার্ন বুঝতে পারবেন।

২. আপনার পুরনো প্রেসক্রিপশন ও সব টেস্টের রিপোর্ট সাথে রাখুন।

বর্তমান সমস্যার জন্য আগে কোনো ডাক্তার দেখিয়েছেন কি না, বা গত কয়েক মাসে কোনো ব্লাড টেস্ট, এক্সরে কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়েছেন কি না, সব রিপোর্ট একটি ফাইলে গুছিয়ে সঙ্গে নিন।

অনেকেই ভাবেন, "পুরনো রিপোর্ট দিয়ে কী হবে?" কিন্তু একজন ডাক্তারের কাছে আপনার আগের রিপোর্টগুলো হলো আপনার শরীরের "হিস্ট্রি বুক"। এতে করে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট আবার করানোর খরচ ও ঝামেলা দুটোই এড়ানো যায়।

৩. আপনি নিয়মিত যেসব ওষুধ খাচ্ছেন, তার তালিকা সাথে নিন।

আপনার কি আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড বা গ্যাসের সমস্যা আছে? কিংবা নিয়মিত কোনো ভিটামিন খাচ্ছেন?

ডাক্তারের কাছে গেলে এসব ওষুধের নাম মুখে মনে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হলো, খালি পাতার একটি ফালা সাথে নেওয়া অথবা মোবাইলে ওষুধের স্পষ্ট ছবি তুলে রাখা। কারণ আপনার নিয়মিত ওষুধের সাথে নতুন কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে কি না, তা ডাক্তারকে যাচাই করতে হয়।

৪. আপনি কী জানতে চান, সেই প্রশ্নগুলো লিখে নিন।

ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লেখার সময় অনেক সময় আমাদের মুখ দিয়ে কোনো প্রশ্ন বের হয় না। কিন্তু চেম্বার থেকে বের হলেই মাথায় হাজারটা প্রশ্ন ঘোরে। তাই বাড়ি থেকেই ২/৩টি জরুরি প্রশ্ন লিখে নিয়ে যান। যেমন:

  • এই রোগটি পুরোপুরি সারতে কতদিন সময় লাগতে পারে?
  • খাবারের ক্ষেত্রে কি কোনো কিছু নিষেধ বা বাড়তি যত্ন দরকার?
  • এই ওষুধের কি কোনো সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে?

ডাক্তার যখন আপনাকে কিছু বলার সুযোগ দেবেন, তখন এক নজরে চিরকুটটা দেখে প্রশ্নগুলো চটজলদি জেনে নিন।

৫. আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং কিছুটা সময় হাতে নিয়ে ডাক্তার চেম্বারে যান

ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার দিন একটু ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ প্রেসার মাপা, স্টেথোস্কোপ দিয়ে বুক পিঠ পরীক্ষা করা কিংবা পেট চেপে দেখার জন্য আঁটসাঁট পোশাক বেশ অসুবিধার কারণ হতে পারে।

পাশাপাশি, ট্রাফিকের কথা মাথায় রেখে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫/২০ মিনিট আগেই পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। তাড়াহুড়ো করে বা ঘেমে নেয়ে চেম্বারে ঢুকলে রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং মানসিক চাপও তৈরি হয়।


শেষ কথাঃ-

ডাক্তারের জন্য যেমন আপনার সঠিক রোগ ধরা জরুরি, তেমনি আপনার দায়িত্ব নিজের সমস্যার সঠিক তথ্য তাঁর কাছে তুলে ধরা। একটু সচেতন হয়ে এই ছোট প্রস্তুতিগুলো নিলেই কিন্তু আপনার সময়, টাকা দুটোই বাঁচবে এবং চিকিৎসা হবে নিখুঁত ও কার্যকর।

সুস্থ থাকুন, নিজের যত্ন নিন!

No Comment

💬 আপনার অভিজ্ঞতা বা প্রশ্ন কমেন্টে লিখুন, অথবা নিচে রেটিং দিন।

Add Comment
comment url